How to Expand Your Business Exponentially

আজকের টপিক হলো ” How to expand your business exponentially “.

ইনক্রিমেন্টালি হবে না কিন্তু এটা হবে এক্সপোনেনশিয়ালি। তার মধ্যে দুটি জিনিস রয়েছে, একটি হলো ব্যবসার মধ্যে এডিশন এবং অন্যটি হল মাল্টিপ্লিকেশন। এডিশন এর বিষয়টা হলো আপনি ১০০ টাকার কাজ করেছেন, এর পরের বছর আরো ১০ টাকা যোগ করেছেন, এর পরের বছর আবার ২০ টাকা যোগ করেছেন। এর অর্থ হলো আপনি ১০% বৃদ্ধি করেছেন। কিন্তু এক্সপোনেনশিয়ালি বিষয়টি যোগের মাধ্যমে হয় না। গুনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যখন বৃদ্ধিসূচক ২ এ চলে আসে মিনিমাম তখন একে এক্সপোনেনশিয়াল বলা হয়।

আপনার ব্যবসা দ্বিগুণ, তিনগুণ বা চারগুন কিভাবে হবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১০০ টাকা টা ১২০,১৪০,১৮০ হয়ে যাক সেটা কোনো ব্যাপার না। ১০০ টাকার ব্যাবসা কিভাবে ২০০,৪০০,৮০০ এর হবে আজকে এখানে তা বলা হবে। একে বলা হয় এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোথ। এডিশন দ্বারা বুঝায় ইনক্রিমেন্টাল অপরদিকে মাল্টিপ্লিকেশন এর অর্থ হলো এক্সপোনেনশিয়াল। এডিশন হতে পারে ১০%,২০% কিংবা ৩০%। অন্যদিকে এক্সপোনেনশিয়াল হবে ১০০%, ২০০% এবং ৩০০% পর্যন্ত। প্রথম ক্ষেত্রে ব্যবসা কিছুটা প্রসারিত হবে কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই দ্বিগুণ , তিনগুন এবং চারগুন হয়ে যাবে।

স্কেলেবিলিটি এর অর্থ হলো যে দিন আপনার ব্যাবসা আপনাকে ছাড়াই নিজে নিজে লাগাতার বাড়তে থাকবে, তখন আমি মানতে পারবো আপনার ব্যাবসা স্কেলেবেল হয়ে গিয়েছে। লালাজি যখন ক্যাশে বসা বন্ধ করে দেয় কিন্তু তবুও তার ব্যাবসা বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন তাকে বলা যেতে পারে এক্সপোনেনশিয়ালি বৃদ্ধি পাওয়া বা ব্যবসা স্কেলেবেল হওয়া।

কিন্তু স্কেলেবিলিটি এর আগে সাস্টেইনেবিলিটি অতীব জরুরী বিষয়। মানুষ স্কেলেবিলিটি এর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে কিন্তু তার ফলেও তাদের কোম্পানির ইম্যাচিউর ডেথ হয়ে যায়। কেননা তারা এক্সপেনশনে চলে যায়, তাদের গ্রস মার্জিন আর থাকে না। তাদের গ্রস প্রফিট বিপদে চলে আসে এবং এক সময় শেষ হয়ে যায়।তাই প্রথমে সাস্টেইন করা জরুরি।

একটি রিকারিং রেভেনিও মডেল ডেভেলপ করা যেখানে আপনার গ্রস প্রফিট ফিক্সড হয়ে যাবে। যেই দিন আপনার গ্রস প্রফিট বিপদমুক্ত হয়ে যাবে তখন স্কেলেবিলিটি এর কথা বলাটা ঠিক হবে। তাই প্রথমে সাস্টেইনেবিলিটি উইথ মিনিমাম অপারেটিং প্রফিট অবশ্যই সুনিশ্চিত করে নিবেন এবং তারপরেই স্কেলেবিলিটি। বেচেঁ থাকা প্রফিট দিয়ে এক্সটারনাল ফান্ড কে ফান্ডিং এজেন্সি, পিই ইনভেস্টের দ্বারা কাজে লাগনো ঠিক হবে। অনেক বেপারি ভুল কি করে জানেন.?

তারা প্রথমেই সাস্টেইনেবিলিটি কে বিপদের মধ্যে ফেলে দেয়। এজন্য আমি বলেছি রিকারিং রেভেনিও মডেলের অর্থ কি হলো কিছু কাস্টমার বেস আপনার ফিক্সড হতে হবে। যেখান থেকে রিকারিং অর্থাৎ বার বার ফিক্সড রেভেনিও অবশ্যই আসতে থাকে। মনোযোগ দিয়ে বুঝার চেষ্টা করুন আমার কথা, Never leave the sure for unsure.

এটাকে অবশ্যই সুরক্ষিত রাখবেন। মিনিমাম গ্রস প্রফিট থাকা লাগবে আপনার ব্যবসার মধ্যে। যদি গ্রস মার্জিন শেষ হয়ে যায় তো আপনার ব্যাবসা জলদি আনন্যাচারাল সাডেন ডেথ হয়ে যাবে। প্রায় সকল ব্যবসার মধ্যে রিকারিং রেভেনিও মডেল কোন না কোনো প্রকারে সম্ভব হয়ে থাকে। আপনার ব্যবসাকে সুরক্ষিত রাখতে হলে আপনাকে খুজঁতে হবে আপনার ব্যবসার মধ্যে রিকারিং মানে বার বার আসা সুরক্ষিত রেভেনিও মডেল কোথা থেকে আসবে যেটা দিয়ে আপনার ব্যবসার সাস্টেইন হবে।

সাস্টেইনেবিলিটি এবং তারপরেই স্কেলেবিলিটি। সাস্টেইনেবিলিটি ছাড়া স্কেলেবিলিটি করতে যাবেন তাহলে বিপদে পড়ে যাবেন হয়তো। আর এভাবেই অনেক উদ্যোক্তা ঝড়ে যায়। যেরকম টা আপনি জানেন আমি আপনাকে ফর্মুলা অবশ্যই দিবো। প্রফিটেবিলিটি হলো প্রোডাক্ট প্লাস পিউপিল। স্কেলেবিলিটি ইজ এন আউটকাম অব প্রসেস অরিয়েন্টেশন। একটু এই ফর্মুলা টা কে ভালো করে বুঝার চেষ্টা করুন। যখন প্রোডাক্ট আন পিউপিল দুইটাই একসাথে হয়ে যায় তখনই প্রফিট আসে। যখন প্রসেস অরিয়েন্টেশন হয় তখন স্কেল আপ হয়ে থাকে। আগে বুঝাচ্ছি একটু মনোযোগ সহকারে বুঝার চেষ্টা করুন। উদাহরণস্বরূপ অনেক গুলো সংঘটনকে আমরা জিজ্ঞাসা করি ব্যাবসা স্কেল আপ করতে হলে কি লাগে.?

তারা বলে আপনার অনেক গুলো ভালো প্রোডাক্ট লাগে। আমরা আবার তাকে প্রশ্ন করি ব্যবসাকে এক্সপেন্ড করতে হলে কিসের প্রয়োজন হয়.? তারা উত্তর দেয়, ভালো প্রোডাক্ট থাকলে ব্যবসা নিজে নিজেই এক্সপেন্ড হয়ে যাবে।সবসময় প্রোডাক্টে নজর দিবেন। আসলে এটা পুরোপুরি সত্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রোডাক্ট এর মান অনেক ভালো কিন্তু তার পরেও ব্যাবসা এক্সপেন্ড হচ্ছে না। এমন অনেক বই আমি পড়েছি যা অনেক ভালো মানের বই ছিলো কিন্তু তা কোথাও পৌছাতে পারে নি।

আবার এমনও অনেক বই আমি পড়েছি যা তেমন একটা ভালো মানের ছিলো না কিন্তু তাও তা পৃথিবীর সব বইয়ের দোকানে, অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, রেলস্টেশন, বাসস্টপ, এয়ারপোর্ট ইত্যাদি সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে। ভালো না হওয়ার পরেও সেই বই অনেক বিক্রি হয়েছে কেননা ঐ বইয়ের পিছনে ব্যাক এন্ড অপারেশন অনেক ভালো ছিলো। তাই সেই বইটি স্কেল আপ হয়ে গিয়েছে। তাই যদি প্রোডাক্ট ভালো হয় কিন্তু তারপরেও স্কেল আপ করা না যায় তাহলে তো এটা সম্ভব নয় যে প্রোডাক্ট পৃথিবীর সব জায়গায় পৌছাবে।এটাকে আজ আরেকটু সহজ করে বলি।

গুপ্তা বার্গারের অনেক গুলো দোকান আমি ভারতে দেখেছি। তারা অনেক ভালো বার্গার বানাচ্ছে, ব্রেডকে অনেক সুন্দর করে ফ্রাই করে, এর উপর টমেটো, সস, ক্যাবেজ, সালাদ, চাটনী ইত্যাদি লাগিয়ে চাটনী বানাচ্ছে। উফ..! কি মজাদার দেখতে। খেলে মজা চলে আসবে।

উম্মাহ..! গুপ্তা বার্গারওয়ালা। অসাধারণ কৃর্তি আপনার।

এখন আসি মূল কথায়। তাদের বার্গার অনেক মজা কিন্তু ব্যাবসা স্কেল আপ করতে পারেনি। কেননা দেখবেন এখানে দুটি জিনিস রয়েছে একটি হলো পার্সোনালিটি অর্থাৎ পিউপিল আর অন্যটি হলো প্রোডাক্ট। পিউপিল আর প্রোডাক্ট দুইটিই ভালো হওয়ার ফলে গুপ্তা বার্গার প্রফিট পাচ্ছে। তার বার্গারের পেছনে খরছ পড়ছে ১৫ টাকা আর সে বিক্রি করছে ৩০ টাকা। ১০০% গ্রস মার্জিন। অদ্ভুত হয় গেল না ব্যাপারটা অনেক.!

হতে পারে গুপ্তা বার্গারওয়ালা অনেক টাকা আয় করে ফেলে কিন্তু অন্যদিকে ম্যাক ডোনাল্ডস স্বাদের জন্য পরিচিত নয়। এর পরিচয় এটা নয় যে ম্যাক ডোনাল্ডস পৃথিবীর সেরা একটি বার্গার বরং তাদের পরিচয় এটাতে যে তারা পৃথিবীতে বিলিয়নেরও বেশ বার্গার বিক্রি করেছে। তাদের পরিচিতি এটাতে যে, তাদের প্রসেস অরিয়েন্টেশনে, তাদের স্পীডে।

তাদের দোকানের প্রথম জানালায় গিয়ে অর্ডার দিলে এর পরের জানালার কাছে যেতে যেতে আপনার বার্গার হাজির। আপনি বার্গার পেয়ে যাবেন। এতটা দ্রুত তারা। একে বলা হয় প্রসেস অরিয়েন্টেশন। ঠিক একই বার্গার দুনিয়ার সব জায়গায় ম্যাক ডোনাল্ডস এর দরজায়।

যে কোনো দেশে একই স্বাদের বার্গার পেয়ে যাবেন। যেখানে আপনি থাকেন সেখানে গলিতে গিয়ে দেখবেন ঐখানে যে বার্গার বানানো ওয়ালা আছে, হতে পারে সে ম্যাক ডোনাল্ডস এর থেকেও ভালো বার্গার বানাচ্ছে। তো এখানে প্রোডাক্ট অনেক ভালো মানের আছে, যে পার্সোনালিটি মানুষ আছে সে বার্গার বানানোতে এক্সপার্ট হয়ে ওঠেছে। সেও অনেক ভালো। এর মানে হলো পিউপিলের কারণে ওর প্রফিট আসছে কিন্তু তার ব্যাবসা কত বড় হতে পাড়বে.?

কখনো সমৃদ্ধা হবে না। কিছু ব্যাবসা করবে আর কিছু ব্যাবসা থেকেই প্রফিট আয় করবে। লাল্লু লালই থেকে যাবে সারাজীবন।

লাল্লু লাল মিষ্টিওয়ালা কানপুরে শুনেছিলাম,তাগ্গু লাড্ডুওয়ালা দিল্লিতে আমি শুনেছিলাম, বিল্লে দি হাট্টি আব লাহোর ছোলা বাটুরা বানায় ইত্যাদি।

এরা সবাই মাস্টার মানুষ। সুপার স্পেশালিষ্ট নিজেদের ইন্ডাস্ট্রিতে। দূর দূর হতে মানুষ এদের বার্গার, ছোলা বাটুরা, এদের লাড্ডু, এদের খিচুড়ি খেতে চলে আসে। কিন্তু সমস্যা কি জানেন.?

এখানে প্রোডাক্ট অনেক ভালো, মানুষও অনেক ভালো। প্রোডাক্ট ও পারসন ভালো হওয়াতে গ্রস মার্জিন চলে আসবে। এ কারণে প্রফিটেবিলিটিও চলে আসবে কিন্তু স্কেলেবিলিটি কখনো আসা সম্ভব না। স্কেলেবিলিটি ততক্ষণ পর্যন্ত আসে না যতক্ষণ না পর্যন্ত, খেয়াল করুন এ ক্ষেত্রে ফ্রন্ট এন্ড এ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে কিন্তু ব্যাক এন্ডে কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

অন্যদিকে ম্যাক ডোনাল্ডস এর ক্ষেত্রে ফ্রন্ট এন্ড এর সাথে সাথে ব্যাক এন্ডে ও অনেক গুরুত্ব দিয়েছে। যেটা ফ্রন্ট এন্ড বলা হয় সেটা আসলে পিউপিল প্লাস প্রোডাক্ট। আর ব্যাক এন্ড হলো প্রসেস অরিয়েন্টেশন। কো যেভাবে আমি বলেছি ফ্রন্ট এন্ড এর ক্ষেত্রে পিউপিল আর প্রোডাক্ট থাকে যেখান হতে প্রফিট আসে কিন্তু ব্যাক এন্ডের মধ্যে অনেক কিছুই থাকে।

যেমন Standard operating proccedure, System of effeciencies, Quality control এবং Physical to digital যাওয়ার শঙ্কা থাকবে।

লাল্লু লাল মিষ্টিওয়ালা র কাছে বা তাগ্গুর লাড্ডু তে বা বিল্লে দি হাট্টি অব লাহোরের ছোলা বাটুরিতে এমন কি স্পেশাল জিনিস আছে.?

এখানে যে লাল্লু লাল আছ তিনি একজন পারসন, অসাধারণ যে মিষ্টি আছে তা হলো প্রোডাক্ট কিন্তু কিসের কমতি আছে তা হলো প্রসেস অরিয়েন্টেশন। যার কারনে লাল্লু লাল মিষ্টিওয়ালা হলদি রাম হতে পারে নাই অর্থাৎ উন্নতি করতে পারে নাই।

গ্লোবাল উদ্যোক্তাদের মধ্যে যারা ইউরুপিয়ান আছে বা আমেরিকান আছে তারা ব্যাবসায় আসার সাথে সাথেই স্কেলেবেল প্রসেস এর কথা চিন্তা করে। তারা অনেক দূর পর্যন্ত চিন্তা করে। বড় আয়ের দিকে তারা নজর রাখে কিন্তু ভারতীয় উদ্যোক্তা কম টাকার মধ্যেই থেকে যায় আর কম টাকাই আয় করে। গ্লোবাল উদ্যোক্তারা ব্যবসা শুরু করতেই লাইসেন্স ফি এর কথা বলবে। প্রোডাক্ট সার্টিফিকেশন নিয়ে চিন্তা করবে। আইপিআর ( Intellectual property Rights) নিয়ে কথা বলবে। প্যাটেন্টিং এর কথা বলবে রয়ালিটি এর কথা বলবে।

দুনিয়ার অনেক গুলো ব্যাবসা এমন ছিলো যেটা একটা ছোট গ্যারেজ থেকে বা ছোট রুম থেকে বা কুঁড়েঘর হতে চালু হয়েছে কিন্তু আজ অনেক বড় বিশ্ব প্রতিষ্ঠান হয়ে গিয়েছে। এর জন্য শুরুতে কি করতে হয়.?

তা হলো স্কেলেবেল প্রসেস কে খুজঁতে হবে। উদ্যোক্তারা কি ভুল করে তা হল তারা নিজের ব্যাবসা তে সবকিছু স্কেল আপ করতে চায়। কিন্তু আসলে সবকিছু স্কেল আপ করা সম্ভব নয়। প্রথমে আপনাকে খুজঁতে হবে আপনার ব্যাবসার মধ্যে কোন জিনিসটা প্রকৃত পক্ষে স্কেল আপ হবে। হার্লে ডেভিডসন একটি ছোট গ্যারেজ থেকে ১৯৯১ সালে চালু করা হয়েছিলো। ওয়ার্ল্ড ডিজনিও ডিজনিল্যান্ডকে একটি ছোট গ্যারেজ থেকে চালু করে ছিলো ১৯২৩ সালে।জেফ বেজোস ও অ্যামাজন ১৯৯৪ সালে চালু কর ছিল ছোট একটি গ্যারেজ থেকে। বিল হিউলেট এবং ডেভ প্যাকার্ড মিলে ১৯৩৯ সালে হিউলেট প্যাকার্ড (hp) শুরু করেছিল অনেক ছোট গ্যারেজ থেকে।

বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার ঐ জায়গাকে সিলিকন ভ্যালি হিসেবে জানা যায়। ১৯৯৮ সালে ল্যারিপেজ এবং সার্জে ব্রেন মিলে ক্যালিফোর্নিয়াতে গুগল চালু কর ছিলো। স্টিভ জবস এবং স্টিভ ওজনেক মিলে ক্যালিফোর্নিয়া তে ১৯৭৬ সালে অ্যাপল কোম্পানি চালু করছিল অনেক ছোট্ট একটি গ্যারেজের মধ্য দিয়ে। রিগলি, হার্ভ হাইমেন এবং ওয়ালমার্ট এদের শুরুও অনেক ছোট একটি গ্যারেজের মধ্য দিয়ো হয়ে ছিলো।আসলে চাইলে এরকম আরো হাজার হাজার উদাহরণ দেয়া যায়।

এখন মাইক্রোসফট এর একটি উদাহরণ নিয়ে কথা বলি। বিল গেটস আর পল এলেন মিলে ১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট এর সূচনা করে ছিলো। ১৯৮১ সালে তাদের প্রথম বড় প্রজেক্ট আইবিএম এর পক্ষ থেকে মিলে ছিলো। DOS তৈরি করার জন্য। কিন্তু তারা তা তৈরি করতে পারে নি। তারপর তারা অনেক তাড়াতাড়ি একটি রেডিমেড DOS বাইরে থেকে কিনে নিয়ে ছিলো। এরপর ঐখানে কিছু মডিফাই করে আইবিএম এর কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করে ছিলো।

আইবিএম একটু বারগেইন করে ফিক্সড প্রাইসে কিনতে চেষ্টা করে ছিলো। কিন্তু বিল গেটস রিকারিং রেভেনিও মডেল জেনারেট করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি আইবিএম কে রাজি করিয়ে ফেলে ছিলেন যে, আমি আপনার কাছ থেকে এখন কোনো টাকা না নেয়ার বদলে আপনার থেকে লাইসেন্স ফি নিবো। যতগুলো কম্পিউটার আপনি বিক্রি করবেন সেখানে MsDOS এর সফটওয়্যার ইন্সটলেশন হবে এবং প্রত্যেক ইন্সটলেশনে আপনি আমাকে লাইসেন্সিং ফি দিতে হবে।

এরপর শুধু আইবিএম নয় সারা পৃথিবীতে যে যে কম্পিউটার বিক্রি করে ছিলো তাকে বিল গেটস লাইসেন্সিং ফি চার্জ করে ইনস্টলেশন প্রসেস এর মধ্য দিয়ে রিকারিং রেভেনিও মডেল জেনারেট করে ছিলো যেটার মধ্য দিয়ে মাইক্রোসফট পরবর্তী লেভেলে চলে গিয়েছিল।

তাই খুঁজত থাকেন যে আপনার ব্যাবসার মধ্যে কোন জিনিস টি স্কেল আপ করা যেতে পারে। কলেজ জীবন হতে একটি ছোট গ্যারেজের মধ্যে হাভার্ড এর পড়া ছেড়ে আজ মনোপলি জেনারেট করে ফেলেছেন নিজের মাইক্রোসফট এর উইন্ডোজ পুরা বিশ্বতে। তো আজকে আরেকটা উদাহরন নিয়ে কথা বলবো। তা হলো আরবিন্দ আই কেয়ার হসপিটাল যা পৃথিবীর মধ্যে এক ধরনের তুফান সৃষ্টি করে দিয়ে ছিলো।

আই কেয়ার হসপিটাল গুলোর মধ্যে এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আই কেয়ার হসপিটাল চেইন সিরিজ তৈরি করেছে। ডাক্তার গোবিন্দাপ্পা ভেনকাটাসোয়ামি অনেক বড় একজন কারিগড়ের পরিচয় দিয়েছেন। আজ সারা বিশ্বতে আই কেয়ারের মধ্যে যে পরিবর্তন তিনি এনে দিয়েছেন, চক্ষুহীন ব্যাক্তিকে চোখেে আলো ফিরিয়ে দেয়ার মিশনের সাথে এক মিশনারি স্পিরিটে সারা বিশ্বতে ব্যবসাকে প্রসারিত করেছেন। তাদের কেস স্টাডি তো এমন যে আজ হাভার্ড ইউনিভার্সিটি তাদের কেস স্টাডি কো বিক্রি করে টাকা আয় করছে।

আমেরিকাতে চোখের যে অপারেশনের জন্য ১৮০০ ডলার নেয়া হত তখন ভারতে গোবিন্দাপ্পা ভেনকাটাসোয়ামি একই অপারেশন ১০ ডলারের মধ্যে করিয়ে দিয়েছেন। কোথায় ১৮০০ ডলার আর কোথায় ১০ ডলার.! এই বিষয়টি কে বলা যায় আরবিন্দ আই কেয়ার হসপিটাল তাদের মডেলকে স্কেলেবেল করেছে। তারা দেখেছে সবচেয়ে বেশি চক্ষুহীন সারা বিশ্বের মধ্যে ভারতেই বেশি আছে।

এখানে তারা এটি সুযোগ দেখতে পেয়েছে এবং তারপর এই মডেলটি কে এশিয়ার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন।তারপর আফ্রিকা নিয়ে গেছেন। আর আমেরিকানরা এই কন্টেন্ট কে সাউথ আমেরিকাতে নিয়ে গেছেন কারণ সেখানকার লোকের মেডিকেল ফেসিলিটি এবং অর্থের কমতি ছিলো।

দেখুন যদি আপনি কনফিউজড হচ্ছেন বা মনে করছেন, ডাক্তার গোবিন্দাপ্পা ভেনকাটাসোয়ামি সার্ভিস কে সস্তা করে দিয়েছেন তো কেমনে আয করছে.? তাহলে আপনাকে বলছি ভালো করে খেয়াল করুন ডাক্তার গোবিন্দাপ্পা ভেনকাটাসোয়ামি এর একটা নিয় আছে যে আমরা মূল্য এই জিনিসটার উপর নির্ধারন করবো না যে আমাদের কত খরচ পড়ে বরং আমরা মূল্য এই জিনিসটার উপর নির্ধারন করবো যে রোগির টাকা দেয়ার সামর্থ্য কতটুকু আছে।আরবিন্দ আই কেয়ার হসপিটাল কি করেছে, তারা ৭০% অপারেশন যতই করুক না কেন তা বিনামূল্যে করে থাকে।

আর বাকি ৩০% অপারেশন গুলোও অনেক কম মূল্যে করে থাকে। ৩০% অপারেশন কম মূল্যে করার পরও ৭০% ফ্রি তে করা দেখে মনে হয় এত খরচ কিন্তু আমদানি কিছুই হচ্ছে না তাহলে হয়তো কোম্পানি লসে চলছে। আপনি কনফিউজ হয়ে যাবেন। মোট প্রফিট আজও ৪০% এর নেট মার্জিনে চলছে। তাদের ইবিডটা ৪০% এর চেয়েও বেশি।সাধারন ভাষায় ইবিডটা এর মানে হল যেটা তাদের প্রফিট আছে আজ ৪০% এর চেয়েও বেশি আছে।

কোনো ব্যাবসাতে এত বড় মার্জিন হয় না কেননা তিনি ব্যাবসাকে স্কেল আপ করেছেন। তারা এটা চিন্তা করে নি যে আমি রুমের মধ্যে বসে লিমিটেড অপারেশন করবোআর অনেক বেশি আয় করে ফেলবো। স্কেলেবেলিটি এর প্রথম উদ্দেশ্য হচ্ছে, চিন্তা বা লক্ষ্য হতে হবে বড় এবং গ্রহণযোগ্য। আবারো বলছি ভালো করে খেয়াল করবেন স্কেলেবিলিটি এর প্রথম শর্ত হলো আপনার চিন্তাটা ক্রান্তিকারী থেকে অনেক বড় হতে হবে।

যত বড় বড় চিন্তা করবেন তত ভালো আইডিয়া আসবে যে কোন বিষয়টি আপনি স্কেল আপ করতে পারবেন। যদি প্লাস প্লাস প্লাস প্লাস করে চিন্তা করতে থাকেন তাহলে কোনোমতে আইডিয়া আসবে না। আইডিয়া আসবে কোনটা যেটা আপনি লিস্টিং বিষয় গুলোকে ঠিক করবেন। কিন্তু যদি আপনি মাল্টিপ্লিকেশনালি হিসাব করেন বা চিন্তা করেন কাহলে আইডিয়া অনেক ভালো আসবে।

১৩ বেডের হসপিটাল থেকে আরবিন্দ আই কেয়ার হসপিটাল এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চেইন হয়ে গেছে। ইতিহাস রচনা করে ফেলেছে তারা। প্রফিটের কথা চিন্তা করে নি তারা বরং ব্যাবসা সমৃদ্ধ করার কথা চিন্তা করেছেন। যেরকম ভাবে ম্যাক ডোনাল্ডস তাদের বেস্ট বার্গারের জন্য পরিচিতি লাভ করে নি বরং তারা সারা পৃথিবীতে বিলিয়ন বার্গার বিক্রি করার মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতি লাভ করেছে।

Leave a Comment