বর্তমান শেয়ার বাজারের অবস্থা – এক নজরে

বছরের পর বছর লোকসানে নিমজ্জিত। কোনো ধরনের লভ্যাংশ পান না বিনিয়োগকারীরা। এমন পচা কোম্পানি শ্যামপুর সুগার মিল। অথচ এ কোম্পানির শেয়ার দামই কিছুদিন আগে বিনিয়োগকারীদের কাছে রূপকথার আলাদিনের চেরাগে পরিণত হয়। দেখতে দেখতে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়ে যায় ২৪০ শতাংশ।

এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর এখন কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমতে শুরু করেছে। শেষ ৯ কার্যদিবসে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম কমেছে ১৮ টাকা ৯০ পয়সা। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই কমেছে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা বা ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর মাধ্যমে সপ্তাহজুড়ে দাম কমার শীর্ষ স্থানটিও দখল করেছে কোম্পানিটি।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ১০ পয়সা, যা তার আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ৭৬ টাকা ৬০ পয়সা। তার আগে ৭ সেপ্টেম্বর ছিল ৮১ টাকা।

শেয়ারের এমন দাম হলেও কোম্পানিটি সর্বশেষ কবে লভ্যাংশ দিয়েছে তা ভুলে গেছেন বিনিয়োগকারীরা। এমনকি ডিএসইর ওয়েবসাইটেও কোম্পানিটির লভ্যাংশ দেয়ার কোনো তথ্য নেই।
গত সপ্তাহজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকায় টানা ১৩ সপ্তাহ শেয়ারবাজারে উত্থান হয়েছে। শেয়ারবাজারের এমন উত্থান প্রবণতার মধ্যে গত সপ্তাহে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে একচেটিয়া দাপট দেখিয়েছে বীমা খাত।

আবার গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এ খাতেরই রয়েছে ৭টি কোম্পানি। বাকি তিনটির মধ্যে পচা বা ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২টি।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে জেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। টাকার অঙ্কে বেড়েছে এক টাকা ২০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৯০ পয়সা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ২ টাকা ৭০ পয়সা।

হঠাৎ শেয়ারের এমন দাম বাড়লেও কোম্পানিটির লভ্যাংশের ইতিহাস খুব একটা ভালো না। সর্বশেষ ২০১৬ সালে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দেয়। এরপর কোম্পানিটি থেকে বিনিয়োগকারীরা আর কোনো লভ্যাংশ পায়নি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আল্টিমেটাম অনুসারে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হওয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১০ কোম্পানির ১৭ পরিচালককে পদ হারাতে হচ্ছে।

এসব পরিচালককে অপসারণ করতে ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত আদেশে সই করেছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। আগামী রোববার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে বলে কশিমনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, এসব পরিচালককে অপসারণ করতে বিএসইসি থেকে কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেয়া হবে। বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালকদের অপসারণে কোনো কোম্পানি গড়িমসি করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক বছরের বেশি সময় পর স্পট মার্কেট থেকে মূল বাজারে ফিরে এসেছে মুন্নু সিরামিক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশে বৃহস্পতিবার কোম্পানিটিকে মূল বাজারে ফিরিয়ে এনেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

স্পট মার্কেটে থেকে মূল বাজারে ফিরেই দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে সিরামিক খাতের কোম্পানিটি। দফায় দফায় দাম বেড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। এরপরও যাদের কাছে কোম্পানিটির শেয়ার আছে তারা বিক্রি করতে চাচ্ছেন না। ফলে ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা উধাও হয়ে গেছে।

এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে মুন্নু সিরামিকের শেয়ারের দাম ছিল ১৩০ টাকা। যা দফায় দফায় বেড়ে সেপ্টেম্বরে ২৩৮ টাকা পর্যন্ত উঠে। এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটিকে মূল বাজার থেকে সাসপেন্ড করে স্পট মার্কেটে নিয়ে যায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এক বছরের বেশি সময় পর মুন্নু সিরামিককে মূল বাজারে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ডিএসই জানিয়েছে, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বিএসইসি কোম্পানিটির শেয়ার স্পট মার্কেটে লেনদেনের নির্দেশ দিয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটিকে স্পট মার্কেট থেকে প্রত্যাহার করে মূল মার্কেটে লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। এ কারণে আজ থেকে কোম্পানিটির শেয়ার মূল বাজারে লেনদেন হবে।

এদিকে আজ ডিএসইর মূল বাজারে মুন্নু সিরামিকের শেয়ার লেনদেন শুরু হলে প্রথমে ১৫৫ টাকা ১০ পয়সা করে ২০০ শেয়ার কেনার প্রস্তাব আসে। তবে কেউ এ দামে শেয়ার বিক্রি করতে রাজি হননি।

এরপর কয়েক দফা দাম বেড়ে এক পর্যায়ে ১৬০ টাকা করে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৬২টি শেয়ার কেনার প্রস্তাব আসে। তবে এ দামেও কেউ তাদের কাছে থাকা শেয়ার বিক্রি করতে রাজি হননি। ফলে ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা উধাও হয়ে পড়েছে।

Leave a Comment