কোডাক কোম্পানি ব্যর্থ কেন হয়ে ছিলো?

কোডাক কোম্পানি ব্যর্থ কেন হয়ে ছিলো?

কোডাক এমন একটি কোম্পানি যে জন্মদাতা ছিলো ফিল্ম ক্যামেরা আর ডিজিটাল ক্যামেরা উভয়েরই । জর্জ ইস্টম্যান নামের এক ব্যাক্তি ১৯৮৮ সালে কোডাক এর স্হাপনা করে ছিলো। ফিল্ম ক্যামেরা এর জগতের মধ্যে সে তুফান সৃষ্টি করে দিয়ে ছিলো রীতিমতো।

১৮৮৮ সাল থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত তার মানে মোট ৮০ বছরের মধ্যে সারা পৃথিবীর মধ্যে ৮০% মার্কেট শেয়ার ক্যাপচার করে নিয়ে ছিলো কোডাক কোম্পানি। আমেরিকার পুরা মার্কেট নমিনেট করে ছিলো তারা এবং ৮০% গ্রস মার্জিনও ছিলো এবং পাশাপাশি ভলিউম লাগাতার অনেক বেড়ে চলে ছিলো তাদের। পুরা দুনিয়াতে ক্যাপচার করে নিয়ে ছিলো কোডাক কোম্পানি। এমন একটা দৈত্যের মত রূপ নিয়ে ছিলো তারা। দেখুন কোডাকের মধ্যে বিশেষ কথাটি আসলে কি ছিলো.?

কোডাক এর ব্যর্থতার প্রথম শুরুর কারণ টাই বলি আমি আপনাকে। এর পরে পুরা কেস স্টাডি নিয়ে বুঝার চেষ্টা করবো। কোডাক কোম্পানি, সবাই জানে যে কনজিউমার প্রোডাক্ট এর মধ্যে সারা দুনিয়াতে এত উচুতে যাওয়ার পর যদি কোনো কোম্পানি হঠাৎ করে একদম নিচে পড়ে যায় তাহলে সবার জন্য এটা একটি অনেক হতাশাজনক ব্যাপার। দেখুন প্রথম থেকে বুঝার চেষ্টা করুন। কোডাক মূলত তিনটি জিনিস নিয়ে কাজ করতো।

প্রথমে বানাতো কোডাক ক্যামেরা, দ্বিতীয়ত বানাতো কোডাক ফিল্ম আর তৃতীয়ত বানাতো কোডাক পেপার। কোডাকের ফিল্ম ক্যামেরার মধ্যে তাদের মার্জিন অনেক লো ছিলো। সেটিকে অনেক বেশি দাম দিয়ে বিক্রি করতো না তারা। যে ৮০% গ্রস মার্জিন আয় করে থাকতো সেটি করতো মূলত কোডাক ফিল্ম থেকে। অনেক হাই গ্রস মার্জিন আইটেম ছিলো তাদের জন্য এটি। আর এরপর, আপনার হয়তো মনে আছে যখন আপনি কোনো বিয়ে বা ফাংশন অথবা অন্য কোনো সেলিব্রেশন এর ফটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য বা অ্যালবাম বানানোর জন্য কোনো ফটোগ্রাফার এর কাছে যেতেন তখন সেটার পেছনে লেখা থাকত অর্থাৎ পেপারের পিছে “কোডাক ফিল্ম পেপার”।

তো এটা হলো কোডাক ফিল্ম পেপার। তো এই তিনটি জিনিস ছিলো কোডাক এর জন্য। কোডাক ক্যামেরা ছিলো একটি লো মার্জিন আইটেম, এর পরের টা ছিলো অনেক হাই মার্জিন আইটেম অর্থাৎ কোডাক ফিল্ম এবং তৃতীয় টাও ছিলো তাদের জন্য অনেক হাই মার্জিন আইটেম অর্থাৎ কোডাক পেপার। ইনফেক্ট কোডাকই হলো সেই কোম্পানি যে প্রফেশনাল স্টুডিও থেকে একটি ক্যামেরা কে তুলে নিয়ে এসে হাউস হোল্ড কনজিউমার প্রোডাক্ট বানিয়ে দিয়ে ছিলো।

ক্যামেরা কে যা সর্বদা প্রফেশনাল স্টুডিও এর মধ্যে আবদ্ধ থাকতো সেটা তখন ঘরে ঘরে পৌছে দিয়ে ছিলো। প্রত্যেক ঘরে একজন ব্যক্তির মধ্যে ছবি তুলার ইচ্ছা জাগ্রত করে দিয়ে ছিলো তারা। কোডাক মোমেন্ট বা কোডাক স্মাইল বিভিন্ন ধরনের ইমোশনাল পান্চ লাইন নিয়ে এসে ছিলো যার জন্য কোডাক এর ক্যামেরা ঘরে ঘরে পৌছে ছিলো। তাহলে হয়ে ছিলো টা কি.? সব কিছু ঠিক চল ছিলো ভালো ভাবে বুঝার চেষ্টা করুন সব কিছুই ঠিক চল ছিলো তাহলে ভুল কোথায় হয়ে ছিলো.?

এটি হলো মূলত রেজার এন্ড ব্লেড সিনড্রোম ফর্মুলা। এই ব্যাবসা টি কে বলা হয় রেজার এন্ড ব্লেড সিনড্রোম। রেজার ব্লেড সিনড্রোম ফর্মুলা টা আসলে কি হলো.? যদি রেজার সস্তা তে বিক্রি করে দিয়েছেন তো ব্লেড সামনের জনের অবশ্যই কিনতে হবে। তখন ব্লেডের মাধ্যমে মুনাফা আয় করে নেওয়া যাবে। তারাও ঠিক এটি করে ছিলো। ক্যামেরা সস্তা তে বিক্রি করছিলো আর ক্যামেরার সাথে আপনার ফিল্ম এর সাথে আর পেপারের সাথে লাগাতার মুনাফা আয় করে নিচ্ছিলো। আসলে সমস্যা এটা হয়ে ছিলো যে যুগ অনেক জলদি বদলে যায়। বেল্ড রেজারের মধ্যেই ডুকে পড়েছে আর ঐ সকল কোম্পানির লস হয়ে গিয়েছে।

সিমিলারলি জলদিই এমন সময় এসেছে যখন ফিল্ম ক্যামেরার মধ্যেই ডুকে গিয়ে ছিলো। আর ডিজিটাল ক্যামেরার যুগ এসে গিয়েছে। ডিজিটাল ক্যামেরার মধ্যে কি হয় লো রিং কস্ট অব ডিজিটাল ফটোগ্রাফি। ডিজিটাল ফটোগ্রাফির মধ্যে কস্ট অনেক কম আসতো আর হাই কোয়ালিটির ইমেজও পাওয়া যাচ্ছে আর ডিজিটাল লিটারেচি বেড়েই চলে গিয়ে ছিলো। এই তিন কারণে হঠাৎ দেখতে দেখতেই ডিজিটাল ক্যামেরা ফিল্ম ক্যামেরা কে খেয়ে ফেলে ছিলো এবং একদম শেষ করে দিয়ে ছিলো। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যদি কোডাক এত বড় অর্গানাইজেশন ছিলো তো সে এটা বুঝতে পারে নি কেনো.? হ্যা নিশ্চয় বুঝতে পেরে ছিলো। তারাও বুঝতে পেরে ছিলো ইনফেক্ট আপনি অবাক হয়ে যাবেন যে ১৯৭৫ সালে স্টিভ নামের এক ব্যক্তি যে তাদেরই নিজের ইন্টার্নাল প্রকৌশলী সেই কোডাক এর মধ্যে প্রথম ক্যামেরা ইনভেন্ট করে ছিলো আর সেটি ডিজিটাল ক্যামেরা। কি বুঝেন নি.?

আবার শুনুন কোডাকই প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা তৈরি করে ছিলো। কোডাকই সেই কোম্পানি যে ডিজিটাল ক্যামেরা এর আবিষ্কার করে ছিলো কিন্তু তবুও চলতে পারে নি কেননা সেটা এডিকশন হয়ে গিয়ে ছিলো। হাই ভলিউম মার্জিন প্রফিটের সাথে আপনার শেষের শক্তি সামনের ভবিষ্যৎ কে খারাপ করে দিতে পারে। কোডাকের শেষের শক্তি অর্থাৎ ঐ সময়ের শক্তিই তাদের ভবিষ্যৎ খারাপ করে দিয়ে ছিলো। যদিও সেটা প্রথম ক্যামেরা ছিলো পয়েন্ট ওয়ান মেগাপিক্সেল এর ছিলো কিন্তু মনোযোগ দিয়ে বুঝার চেষ্টা করুন একটি ক্লাসিকাল উদাহরণ আছে।

Missing opportunity of first mover advantage. ফার্স্ট মোভার এডভান্টেজ ও অনেক বড় এডভান্টেজ হতে পারে। ঠিক আছে ফার্স্ট মোভার হতে হবে কিন্তু কোডাক সেটি হতে পারে নি। কিন্তু যদিও কোডাক ফার্স্ট মোভার ছিলো এবং তার জন্য এটি সহজ ছিলো ফার্স্ট মোভার হওয়া। যদি ফার্স্ট মোভার এর এডভান্টেজ নিতে পারত তাহলে অনেক বড় মার্কেট শেয়ার ক্যাপচার করতে পারতো। অপর দিকে ফুজি ফিল্ম তাকে ধোকাঁ দিচ্ছিলো। ফুজি ফিল্ম হঠাৎ করে জাপানিজ টেকনোলোজির সাথে মিলে ১৯৮০ এর পর প্রোডাকশন ইকোনমি স্কিল এতটাই বাড়িয়ে দিয়ে ছিলো যে কোডাক এর চেয়েও সস্তাতে ফিল্ম বিক্রি করতে লাগলো। আমেরিকান মার্কেটে এসে এক প্রকার যুদ্ধ শুরু করে দিয়ে ছিলো ফুজি ফিল্ম। আর সেখানে কোডাক কিছু বুঝতেই পারে নি। কোডাক ডিজিটাল ক্যামেরার দিকে ধ্যান দিতেই পারে নি আর। কেননা কোডাক ফুজি ফিল্ম এর বিপক্ষে লড়াই করা শুরু করে দিয়ে ছিলো। Fighting against wrong competition can kill your actual business. আরেক বার বলি আসুন Fighting against wrong competition can kill your actual business.

আপনাকে অবশ্যই নিজের পজিশন তৈরি করে নিতে হবে। রিচার্চ এন্ড ডেভেলপ মেন্ট কোডাক এর অনেক শক্তিশালী ছিলো। এখনো পৃথিবী কোডাক এর বিপক্ষে আঙুল তুলা শুরুই করে নি যে কোডাক থেমে গেছে আর দুনিয়া আগে চলে যাচ্ছে। এতটুকু তে কোডাক নিজের মার্কেট ইনটেলিজেন্স টিম কে ইনভেস্ট করে ছিলো এবং তাদের লাগিয়ে দিয়ে ছিলো আর তাদের এনগেইজ করে ছিলো যে আমাকে বলুন যে কি হতে যাচ্ছে সামনে । নিজেদের রিপোর্টে তারা শিফট ইন কোর টেকনোলজি আর এডপশন কার্ভ এর সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে ছিলো যে কিভাবে মার্কেট এডপ্ট করে যাবে আর কোর টেকনোলজি শিফট হয়ে যাবে। যদিও ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে তারা ঐ সময়ে কিছু অবুঝহীন অবস্হায় ছিলো। স্টিভ বসে কোডাক এর মধ্যেই ডিজিটাল ক্যামেরা বানিয়ে ছিলো। ঐ সময়ে কাজ কিছু ধীর গতির ছিলো এবং অনেক দামি জিনিস দেখাতে হচ্ছিলো।

কিছু বুঝতে পারছিলো না যে ডিজিটাল ক্যামেরা আসবে কি আসবে না। তার জন্য কিছু আপনার কোডাক এর পার্টও বুজতে হবে। কোডাক এর ভুল হয়ে ছিলো কেন.? কোডাক কি জেনে শুনে করেছে নাকি এগুলো। কোডাক তখন চিন্তা করছিলো শুধু আর সে কিছু বুঝে উঠতে পারছিলো না যে ডিজিটাল ক্যামেরা হবে কি হবে না। কেননা কোডাক এর মনে হয়ে ছিলো হাতে ধরে রাখার মত টাচ এন্ড ফিল ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতা দুনিয়া কখনো ছাড়বে না। কোডাক চিন্তা করছিলো ফটো হাতে নেওয়ার যে ইমোশন হয় প্রিন্ট এর সেটা কে দুনিয়া কখনো ছাড়বে না। ডিজিটাল এটা কে কখনো ধরতে পারবে না। আসলে এর জন্য এই কারণ টাও ছিলো যে, কেননা কোডাক হাই মার্জিন পাচ্ছি লো মনে আছে আপনার.? আমি শেয়ার করে ছিলাম আপনার সাথে, ফিল্ম এর মধ্যে এত এত হাই মার্জিন পেয়ে এক্সুয়েলি কোডাক অনেক বড় বড় ফ্যাক্টরি বানিয়ে ফেলে ছিলো যে হাই মার্জিন এবং হাই ভলিউম প্রোডাকশন এর উপর ফ্রেম বেস ক্যামেরার জন্য। এখন এটাকে ধরা তাদের জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে ওঠছিলো। তাদের ফিডব্যাক তো মিলছে কিন্তু ফিড ফরোয়ার্ডে কনভার্ট হচ্ছিলো না।

আরেক বার বলি ভালো করে বুঝুন ফিডব্যাক তো মার্কেট থেকে পেয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু ফিড ফরোয়ার্ডে কোনো ভাবেই ইমপ্লিমেন্ট হতে পারছিলো না। শিফট ইন কোর টেকনোলোজি থেকে তারা জানতে পায় এডপশন কার্ভ এর আইডিয়াও কাজে দিচ্ছিলো এবং মার্কেট থেকেও যথেষ্ট ফিডব্যাক মিল ছিলো। কিন্তু তবুও তারা অনেক ব্যস্ত ছিলো ভুল প্রতিযোগিতার বিপক্ষের লড়াইয়ে। ঐ সময় তারা ফুজি এর বিপক্ষে লড়াই করা শুরু করে দিয়ে ছিলো। They are too busy in fighting against the wrong competition. এটি হলো আসলে Ten years of busyness, Losing a lot of business.

আসলে কোডাক কোম্পানির প্রথম ভুল হলো এডপশন কার্ভ কে তারা ভালো করে চিনতেই পারে নি। ১০ বছরের সময় ধরে বিভিন্ন মার্কেট জরিপ কোডাক এর মার্কেট ইনটেলিজেন্স টিম তাদের দিয়ে ছিলো। সেই ১০ বছর তারা, they got too busy in fighting against the wrong competition. তারা ফুজি কোম্পানির সাথে লড়াই করেই চলে ছিলো। তাদের আসলে লড়াই করার কোনো প্রয়োজন ছিলো না। তাদের দেখা উচিত ছিলো মার্কেট কোথায় শিফট হতে যাচ্ছে ।

ঠিক এমনই হয়তো আপনার ইন্ডাস্ট্রি এর মধ্যে মার্কেট শিফট করতে পারে। ভালো ভাবে বুঝার চেষ্টা করবেন অবাক করার মতো আরো অনেক কথা আসছে সামনে আপনার জন্য। কোডাক এর কেস স্টাডি আপনার পছন্দ হয়েছে সেটি ভালো কথা।কিন্তু আমার কাজ হলো কোডাক কোম্পানি যে সকল ভুল গুলো করে ছিলো সেই ভুল গুলো কে প্রত্যেক সাধারন ব্যক্তির নিকট পৌছে দেওয়া। আপনিও কি এমন কোনো কোনো ভুল করতে যাচ্ছেন.?

দেখুন আরো চার থেকে পাচঁটি বড় ভুল আসতে চলেছে কোডাক কোম্পানির এই লম্বা সফরের মধ্যে। যার মধ্যে আপনার জন্য অনেক লার্নিং এবং লেসন আছে যাতে আপনি সেই একই ভুল গুলো পুনরায় না করেন। কোডাক কোম্পানি থেকে শিখতে পারেন আপনিও। আগে পড়তে থাকুন। একটা মজাদার কথা বলি ১৯৭৭ সালের দিকে ঐ সময়ে গানথার নামের ঐ সময়ের একজন সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী যে জেরক্স কে অনেক উপরে নিয়ে গিয়ে ছিলো, তাকে ইন্টার্ভিউ এর জন্য ডেকে ছিলো কোডাক কোম্পানির টপ ম্যানেজমেন্ট। তারা বলে ছিলো গানথার, আমাদের তোমার প্রয়োজন আছে আর সেই ইন্টার্ভিউ টি অনেক লম্বা চৌড়া হয়ে ছিলো। ইন্টার্ভিউ তে গানথার কে একটা প্রশ্ন করে ছিলো কোডাক কোম্পানি এর টপ ম্যানেজমেন্ট। প্রশ্নটি হলো, গানথার তোমার কি মনে হয় ভবিষ্যৎ কেমন দেখতে পাচ্ছো তুমি.?

আগে ভবিষ্যৎ কেমন হবে বলে মনে হয় তোমার.? তো তখন গানথার উত্তর দিলো আমি ভবিষ্যৎ ডিজিটাল দেখতে পাচ্ছি। কি দেখতে পাচ্ছে.? আরেক বার বলি, গানথার বলল আমি ভবিষ্যৎ ডিজিটাল দেখতে পাচ্ছি। কোডাক কোম্পানির লোকেরা তখন রেগে গিয়ে ছিলো আর মন খারাপ করে ফেলে ছিলো। ইন্টার্ভিউ এর মধ্যেই মন খারাপ করে ফেলে ছিলো তারা। গানথার এর মতো বিজ্ঞানী এর মতামতের কারণে ইন্টার্ভিউ এর মধ্যেই মনোমালিন্য হয়ে গিয়ে ছিলো। গানথার আসলে এত বেশি শক্তিশালী বিজ্ঞানী ছিলো যে কোডাক কোম্পানি তো তাকে নিয়ে নিয়েছে এবং চাকরির মধ্যেও নিয়ে নিয়েছে। গানথার কোডাকের মধ্যে জয়েন করে নিয়ে ছিলো। জয়েন করার কিছু দিন পর যখন গানথার নিজের কিছু ফিডব্যাক আরো দিয়ে ছিলো এক্সুয়েলি আপনিও হয়তো চিন্তা করছেন কোডাক কোম্পানি কি পাগল ছিলো নাকি তারা এই কথাটা বুঝতে চেষ্টা কেন করছিলো না.?

তারা আসলে এই কারণে মানতো না কেননা যে ফিল্ম ক্যামেরার ব্যবসা ছিলো সেটা তে এত বেশি প্রফিট নিয়ে আসছিলো যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছিলো অনেক সহজে। ডাইভারসিফাই করছিলো এবং ফার্মাসিউটিক্যাল করছিলো। নতুন নতুন ব্যবসা কেনার ফলে এত আয় হয়ে গিয়ে ছিলো যে তাদের, তখন তাদের মনে হলো এত বড় আয়ের ব্যবসা তে তুমি প্রশ্ন কিভাবে করতে পারো। এখন গানথার আচ্ছা সেই সাথে আরেকটি কথা রয়েছে ফোর্বস এর একটি ম্যাগাজিনে ১৯৮৪ সালে একটি আর্টিকেল এর মধ্যে লিখে ছিলো যে দুনিয়া আগে চলে গিয়েছে আর কোডাক কোম্পানি এখনো পিছে রয়ে গিয়েছে।

এতে কোডাক এর ম্যানেজমেন্ট টিম এত বেশি রেগে গিয়ে ছিলো যে ঐ সময়ে তাদের রিফ্লেক্টিভ লিসেনিং দেখুন তাদের রিফ্লেক্টিভ লিসেনিং এর কত কমতি ছিলো যে রিবাটনে লেগে গিয়ে ছিলো তারা। উত্তর দেওয়াতে লেগে গিয়ে ছিলো তারা যে, যেই ব্যাক্তি এই আর্টিকেল লিখেছে সে কিছুটা লো ইনটেলিজেন্স আইকিউ আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিজনেস এনালাইটিকস। তারা বুঝতে পারছিলো না আসলে। আর কোডাক এর টিম তখনও রিবাটনে লেগে ছিলো। তাদের এটা মনে হয় নি যে আমাদের ফিডব্যাক কে ফিড ফরোয়ার্ডে কনভার্ট করতে হবে। আবারো বলি ভালো ভাবে খেয়াল করুন ফিডব্যাক তো ছিলো তাদের কিন্তু ফিড ফরোয়ার্ড ছিলো না। আচ্ছা এটা তে লার্নিং কি আছে.? শেখার মত কি আছে.?

Here the top management lacks in reflective listening about their blind spots. One more time cmon, Top management lacks in reflective listening about their blind spots. ব্লাইন্ড স্পট এর অর্থ আসলে কি.?

এটা সেই স্পট যা আরেক জন দেখতে পায় কিন্তু সে নিজে দেখতে পারে না। তাদের দেখা বন্ধ হয়ে গিয়ে ছিলো। আমি আবারো বলছি, এত বড় প্রফিট অর্থাৎ আমার নিজের শক্তিই আমাকে ডুবিয়ে দিয়ে ছিলো। মনোযোগ দিবেন দেখুন আপনার শক্তি আপনাকে আগে বাড়াতে পারতো কিন্তু আপনার শক্তি এই পরিবর্তনশীল পরিবেশে লিমিটেড সময় এর জন্য হয়ে থাকে। শেখার কি আছে এটা তে.? লার্নিং টা কি.?

Every competitive advantage has a limited lifespan. One more time, C’mon Every competitive advantage has a limited lifespan.

আপনার কাছে আজ যেই শক্তি আছে সেটা অনেক কম সময়ের জন্য কেননা আপনার কম্পিটিটরও সেখানে ডুকতে থাকবে। অনেক কম্পিটিটর চলে এসে ছিলো তখন। দেখতে দেখতে ডিজিটাল ক্যামেরা তো বানিয়ে ছিলো কোডাক কোম্পানি কিন্তু সেটি অন্য ব্রান্ড এসে পুরা ব্যবসা নিয়ে চলে গিয়ে ছিলো। গানথার এর মতো বিজ্ঞানী আর মিডিয়া আর নিজেদেরই ইন্টার্নাল টিমের কথা অবজ্ঞা করা এবং মার্কেট ইনটেলিজেন্স টিম কে অবজ্ঞা করা এর মূল কারন। এটি হলো মূলত Self praising syndrome. আরেক বার বলি কি বলা হয় এটিকে.?

Self praising syndrome. When you are too busy in convincing others about your own intelligence. আপনি অনেক ব্যস্ত, আপনি পুরা শক্তি এটা তে লাগিয়ে দেন যে কিভাবে মানুষকে দেখাতে হবে। মানুষকে দেখানো তে লাগিয়ে দেন যে দেখো আমি কত বুদ্ধিমান। আমি এত এত টাকা আয় করে দেখিয়েছি। আমাকে শিখাবেন না। এটা কে বলা হয় ফিডব্যাক তো ছিলো কিন্তু ফিড ফরোয়ার্ড ছিলো না। যত যত সময় পেরিয়ে যাচ্ছিলো তাদের টপ ম্যানেজমেন্ট এটা বুঝতে পারছিলো যে, That we are clinging to the past and we are playing our favourite. One more time C’mon Clinging to the past and playing our favourite.

তারা জানতো যে আমার পছন্দের গেম হচ্ছে কোডাক ফিল্ম। তারা জানতো যে এত বড় মার্জিন আচ্ছা দেখুন তখন ছিলো প্রস্তুতির সময় কিন্তু ক্লিংগিং টু দ্যা পাস্ট এন্ড প্লেয়িং দ্যা ফেভারিট। যার কারণে ভোট নিজের ট্যালেন্ট কে এখানে ট্যালেন্ট এর মানে হলো তাদের যে ম্যান পাওয়ার আছে অর্থাৎ অর্গানাইজেশন এর মধ্যে ম্যান পাওয়ার হয় সেটি। এই কারণে তারা নিজের ট্যালেন্ট কে যুক্ত করে সর্বোচ্চ সমাধান বের করতে পারে নি। সময় ছিলো কিন্তু সময় থাকা কালীন হাত থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলো। সেই ট্যালেন্ট কে যদি তারা সংযুক্ত করে যেত তাহলে স্পীড অব এক্সিকিউশন হতে পারতো। আপনি আমার লিখার মধ্যে সব সময় বুঝতে পারেন স্ট্রেটেজি আর ইনোভেশন আপনাকে সফল বানায় না।

১৯৯০ সালে ফার্স্ট শক অর্থাৎ প্রথম ঝাটকা তখন লেগে ছিলো যখন হঠাৎ দশ হাজার কর্মচারী কে কোম্পানি থেকে বের করতে হয়ে ছিলো তাদের । ১৯৯০ সালে তো কোয়ার্টারলি এক্সপ্লোশন হচ্ছিলো ডিজিটাল ডিসরাপশন এর। যদিও ১৯৯০ সাল টি এত খারাপ ছিলো না। They were only quarterly explosion of digital disruption. কিন্তু ২০০০ সাল এর পর তো, It turns into monthly explosion of digital disruption. এর পরে দেখতে দেখতে Daily explosion of digital disruption পৌছে গিয়ে ছিলো। অনেক দ্রুততার সাথে যুগ পাল্টাচ্ছিলো তখন। যদিও ২০০১ সালে কোডাক ডিজিটাল ক্যামেরা কে মাস মার্কেটে তো নিয়ে এসে ছিলো কিন্তু সেলস কে বাচাঁতে পারলো না তারা ।

২০০১ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ৯০% সেলস ডাউন হয়ে ছিলো। 8 years of consecutive operating losses কে সহ্য করতে হয়েছে তাদের। Increase in cash crunch and decrease in liquidity. প্রফিবিলিটি চলে গিয়ে ছিলো তাদের। ক্রেডিট রেটিং ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট এর মধ্যে শেষ হয়ে গিয়ে ছিলো তখন। এক্সাটার্নাল সাপোর্ট এর জন্য কেউই সামনে এগিয়ে আসলো না। আসলে ভালো করে দেখুন ১৯৯০ সালে তো ফিল্ম ক্যামেরা উপরে চলছিলো কিন্তু ১৯৯৫ সালে ডিজিটাল ক্যামেরা ধীরে ধীরে এসে ছিলো আর ধীরে ধীরে উপরে উঠতে লাগলো। ২০০৩ পর্যন্ত ফিল্ম ক্যামেরা নিচে এসে ছিলো আর ডিজিটাল ক্যামেরা উপরে উঠতে লাগলো আর অতিক্রম করে ফেললো।

২০১১ সালে ফিল্ম ক্যামেরা পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়ে ছিলো। হেল্পলেস বা অসহায় হয়ে দেখতে দেখতে চোখের সামনে ২০১২ সালে ফাইল করে দেয়া হয়ে ছিলো ব্যাংক করাপসি এর ১১ তম অধ্যায়। কোডাক এর চ্যাপ্টার ওভার হয়ে গিয়ে ছিলো। লার্নিংস অনেক গুলো বের করা যেতে পারে। Patterns that gave success in the past can delay your progress in the future. One more time C’mon patterns that gave success in the past can delay your progress in the future. যে কোনো কম্পারেটিভ এডভান্টেজ, আপনার যে কোনো ইনোভেশন যার একটা লিমিটেড লাইফ স্পান হয়ে থাকে। আপনার বর্তমান শক্তি কি.?

আর মার্কেটের বর্তমান প্রয়োজন কি? ভালো ভাবে বুঝার চেষ্টা করুন কারেন্ট ইনোভেশন মার্কেটের প্রয়োজন এর সাথে যদি না মিলে আর পোগ্রেসিভ নিড এর সাথে না মিলে তো তাহলে ভবিষ্যৎ ভয়ঙ্কর হতে পারে। আপনার আজকের শক্তি আজকে তো আপনাকে লাভ দিবে কিন্তু জরুরি নয় যে ভবিষ্যতেও লাভ দিতে থাকবে। যদি আপনি কোনো সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এর পার্ট হোন অথবা যদি আপনি কোনো উদ্যোক্তা বা স্টার্ট আপ হোন আর আপনি চান আপনার ব্যবসাকে বা আপনার প্রফেশনাল ক্যারিয়ার কে একটি নতুন লেভেলে নিয়ে যাওয়া তাহলে আপনার ব্লু ওসেন স্ট্রেটেজি আইডেন্টিফাই করুন এবং নতুন মার্কেট কে আইডেন্টিফাই করুন। নিজের উপর ইনভেস্ট করার ক্ষেত্রে কখনো কৃপনতা করবেন না। আমি বার বার বলে থাকি কৃপনতা করুন মনোরঞ্জন এর ক্ষেত্রে মনোমঞ্জনে নয়। বিনোদনে কৃপনতা করুন কিন্তু নিজেকে গড়ার কাজে টাকা ইনভেস্ট করা উচিত।

Leave a Comment